ডাঃ মোঃ সালাহ্ উদ্দিন

অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প: ডাঃ সালাহ্ উদ্দিন :

ডাঃ সালাহ্ উদ্দিন : একজন মানুষের শেকড় থেকে সেবার শীর্ষে পৌঁছানো

রাজশাহীর রাজপাড়া থানার ডিংগাডোবা এলাকার এক শান্ত পরিবারে জন্ম ডাঃ সালাহ্ উদ্দিন -এর। তাঁর বাবা, মোঃ শফিকুল আলম, ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রের সেবা করে অবসর নেন। মা, জাহানারা বেগম, ঘর সামলেছেন নিঃশব্দে, ভালোবাসা আর শিক্ষার আলো দিয়ে সন্তানদের গড়ে তুলেছেন।

ছেলেবেলা থেকেই সালাহ্ উদ্দিন ছিলেন মেধাবী ও লক্ষ্যনিষ্ঠ। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি এবং নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৭ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল একজন ডাক্তার হওয়া, শুধু পেশা হিসেবে নয়—মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই।

স্বপ্ন পূরণে তিনি ভর্তি হন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে। দীর্ঘ পাঁচ বছর কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের পর ২০১৩ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর নিজের চিকিৎসা জীবনের শুরু থেকেই তিনি হাড়, জয়েন্ট ও মাস্কুলোস্কেলেটাল সমস্যার ওপর কাজ করতে আগ্রহী হন।

ঢাকার শ্যামলীর রিং রোড এলাকায় তাঁর চিকিৎসা কেন্দ্র। প্রতিদিন আসেন নানা জায়গা থেকে মানুষ—কেউ হাড় ভেঙে আসেন, কেউ খেলতে গিয়ে হাঁটু ছিঁড়েছেন, কারও বারবার কাঁধ ছুটে যায়। ডাঃ সালাহ্ উদ্দিন শুধু ওষুধ দেন না—তিনি বোঝেন, এই মানুষগুলোর প্রতিটা ব্যথার পেছনে আছে না বলা অনেক কষ্ট।

তিনি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে (যেমন—আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি, জয়েন্ট প্রিজারভেশন থেরাপি, জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট ইত্যাদি) রোগীদের ব্যথা থেকে মুক্তি দেন। হাঁটু, হিপ বা শোল্ডারের জটিল আর্থ্রাইটিসে তিনি সার্জারি ছাড়াই আর্থ্রোস্কোপিক চিকিৎসা দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবনে গতি ফিরিয়ে এনেছেন।

তাঁর সেবার পরিধি শুধু একটি চেম্বার বা হাসপাতাল নয়, তাঁর প্রতিটি রোগীর মনের ভেতর ছড়িয়ে আছে কৃতজ্ঞতা আর সম্মান।

Scroll to Top